বিচার ব‍্যবস্থার গাফিলতির কারনে প্রায় চারদশক পরে মায়ের সাথে দেখা হলো দীপক যোশীর।

বিশেষ প্রতিবেদন, ২৫ মার্চ

বিচারের গাফিলতির কারনে ৭৫ বছর বয়সি দীপক যোশী এখন বাড়ী ফিরতে পারলো।প্রায় চার দশক পর বাড়ী ফেরা হলো তার।দীপকের বাড়ী নেপালে।১৯৮০ সালে সে বাড়ী থেকে বের হয় দার্জিলিংয়ে  কাজে র খোঁজে।সেই শেষ দেখা হয় তার মায়ের সাথে।তার আর বাড়ী ফেরা হয়নি।ছেলে বাড়ী না ফেরাই দীপক এর মা ‘ধনোমায়াদেবী ‘দেবী পাঁচ বছর অপেক্ষা করেন কবে তার ছেলে ফিরে আসবে এরপর তিনি ভাবেন তার ছেলে আর নেই তাই প্রতিদিন ছেলেন আত্মর শান্তি কামনা করতেন।কিন্তু চল্লিশ বছর পর যখন শোনেন তার মা বেঁচে আছেন দীপক যোশী,তিনি বিশ্বাস করতে পারেন নি ।

international_47

দীপক যোশীর এই বাড়ি ফিরে যাওয়ার পিছনে যাদের অন্যতম হাত রয়েছে তারা হলেন ওয়েস্টবেঙ্গল রেডিও ক্লাবের HAM সদস্যরা।ওয়েস্টবেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সেক্রেটারি অম্বরিশ নাগ বিশ্বাস বলেন “এতদিন অনেক হারিয়ে যাওয়া মানুষকে বাড়ি ফিরেয়েছি ।কিন্তু এবারে দীপক জোশি একটা নতুন কাজ দেখিয়ে গেলেন ,না জানি ওঁর মত বিনা বিচারে আটকে  আছে আরও কত বন্দি জীবন তাদেরকে এবার খুঁজে বার করব এবং আদালতের সামনে তুলে ধরব তাঁদের কথাও।শনিবার দমদমের কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরলেন নেপালের বাসিন্দা দীপক যোশী।

international_47

ওয়েস্টবেঙ্গল রেডিও ক্লাবের (WBRC) সাথে সাথে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ছিলেন বেশ কয়েকজন আইনজীবী তার মধ্যে অন্যতম হলেন হীরক সিনহা (ভাইস প্রেসিডেন্ট অফ WBRC এবং কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি)  নেপাল হাই কমিশন এবং নেপাল HAM সদস্যরাও।

international_47

দমদম সংশোধনাগারে থাকা প্রাক্তন এক বন্দী ওয়েস্টবেঙ্গল রেডিও ক্লাবের কাছে পৌছে দিয়েছিলেন দীপক যোশীর খবর। এরপর ওয়েস্টবেঙ্গল রেডিও ক্লাবের HAM সদস্যরা যোগাযোগ করে নেপাল HAM সাথে তারপর বহু প্রচেষ্টার পর খুঁজে পাওয়া যায় দীপক যোশীর পরিবারকে।

international_47

ভাইকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এদের নেপাল থেকে দমদম ছুটে আসেন দীপক যোশীর দাদা ।জানা যায় ,১৯৮০ সালের পর পাঁচ বছর দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দীপক যোশীর মা ছেলের ফটোতে রোজ মালা ও জল দিতেন।যখন ছেলেকে সামনে দেখতে পান তখন ও কিছুক্ষন স্তম্ভিত হয়েছিলেন ধনোমায়াদেবী ।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন ওঠে বিচার ব‍্যবস্থা সম্পর্কে।১৯৮০ সালে আদালতে চার্যশিটে দেখানো হয় দীপক পুরো পুরি সুস্থ কিন্তু পরের বছর দায়ারা আদালতে সরকারি উকিল চার্যশিট পেশ করে জানান দীপক মানসিক ভাবে অসুস্থ।এখানেই প্রশ্ন ঝঠে ৩৯ বছর পর্যন্ত তাকে সুস্থ করার কোনো ব‍্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি? আর যদি নেওয়া হয় তার চার্যশিট আদালতে এতোদিনে জমা পড়েনি কেন?শুধুমাত্র ভুল ওবিচার ব‍্যবস্থার গফিলতির জন‍্য দীপক তার নিজের বাড়ী চার দশক(৪০ বছর)  ফিরতে পারেনি।সুপ্রিম  কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিলো জেলা কোর্ট ও দায়রার ওপর অভিযোগ শোনা ও যথাযথ ব‍্যবস্থা গ্ৰহন করা ।কিন্তু তা করাহয়নি।।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *