মঙ্গল যান মিশনে বুদ্ধির পরিচয় দিলেন ভারতীয় বিজ্ঞানী ডঃ স্বাতী মোহন।

বিশেষ প্রতিবেদন,২০ ফেব্রুয়ারি

এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের  সাক্ষী থাকল সারা বিশ্ব শুক্রবার গভীর রাতে ১৯ শে ফেব্রুয়ারি  ২০২১। লালগ্রহের মাটিতে একটি আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের উপরে সাবধানে অবতরণ করল NASA-র তৈরি ” প্রিসারভ্যারেন্স রোভার”( Perseverance Rover)। প্রিসারভ্যারেন্স রোভার এর  অভিযান থেকে শুরু করে ল্যান্ডিং পর্যন্ত  রোভারের গাইডেন্স, নেভিগেশন ও কন্ট্রোল  সহ যাবতীয় খুঁটিনাটি সমস্ত অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন ডঃ স্বাতী মোহন।

এই রোভারটি ২০২০ সালের ৩০ শে জুলাই আমেরিকার ফ্লোরিডার  Cape Canaveral  স্পেস স্টেশন থেকে লালগ্রহের (মঙ্গলের) পথে যাত্রা শুরু করে।দীর্ঘ ৬ মাস ১৮ দিন মঙ্গলের কক্ষপথে অতিক্রম করে অবশেষে লালগ্রহের মাটি স্পর্শ করল এই Perseverance Rover টি।

ডঃ স্বাতী মোহন এক বছর বয়সে পাড়ি দেন আমেরিকায়, তারপর সেখান থেকেই বেড়ে ওঠা তার। সুতরাং লেখাপড়া থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র সবটাই সম্পন্ন করেন মার্কিন মুলুকে।খুব ছোটবেলা থেকেই মহাকাশের প্রতি আলাদা ভালোবাসা ছিল জানান নাসার বিজ্ঞানীরা। ডঃ স্বাতী ১৬ বছর বয়সে তার ভবিষ্যতের পরিকল্পনা মনের মধ্যে গেঁথে নেন। সেই ইচ্ছা থেকেই তিনি আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এয়ারস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়েন। তারপর তিনি অ্যাস্ট্রোনিক্স MS থেকে PHD ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে সাথী নাসার Jet propulsion পরীক্ষাগারে কর্মরত। তাছাড়া এই মঙ্গল মিশন এর পূর্বেও তিনি চন্দ্রযান ও শনি গ্রহের মিশন ক্যাসিনিতে ও সামিল ছিলেন।সারা বিশ্ব যখন তাকিয়েছিল অবতরণ কিভাবে হবে এই রোভার টির, ঠিক তখনই ডঃ স্বাতী মোহন তার লক্ষ্য থেকে একটুও বিচলিত না হয়ে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছিলেন।

space_03

নাসার বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে,”এই রোভার এর ৭ রকমের অত্যাধুনিক কর্ম ক্ষমতা সম্পন্ন যন্ত্রপাতি রয়েছে, যার দ্বারা এই লাল গ্রহের খুব জটিল ও উচ্চ মানের গবেষণা করতে সক্ষম  হবে এই রোভার “।সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে ,এই রোভারে একটি ছোট হেলিকপ্টার রয়েছে যার নাম Ingenuity।এছাড়াও এই দোকানের মধ্যে আছে একটি ছোট্ট ড্রিলিং মেশিন।১০২৫ কেজি ওজনের এই রোভার টি Jet propulsion Laboratory তে তৈরি হয়েছে।

সময়ের কাঁটা অনুযায়ী এই Perseverance Rover মঙ্গলের মাটিতে এক বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে, অর্থাৎ পৃথিবীর সময় অনুযায়ী দু’বছর, এই সময়ের মধ্যে রোভার টি ৪৩ টি টিউবের মধ্যে লালগ্রহের মাটি ও পাথর সংগ্রহ করবে । এছাড়াও এই রোভারের মাধ্যমে নাসার বিজ্ঞানীরা অতীতে আদৌ কোন প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিনা তা জানার পাশাপাশি মঙ্গলে জল রয়েছে কিনা তারও সন্ধান চালাবে। এবং ভবিষ্যতে মঙ্গলে জীবজগতের জন্য আদৌ অনুকূল পরিবেশ রয়েছে কিনা তার সন্ধানে চালাবে।NASA  সহ বিশ্বের তাবড়-তাবড় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই- Perseverance Rover এর অভিযানের দিকে নজর রাখছেন। এই মিশন যদি পূর্বপরিকল্পিত প্ল‍‍্যান অনুযায়ী সফল হয়, তাহলে নাসার বিজ্ঞানীদের কাছে মঙ্গলের ভবিষ্যৎ নিয়ে রিসার্চ করার অনেক নতুন রাস্তা খুলে যাবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *